কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা - কুইজার্ডস (Quizards)

চ্যাপ্টা কৃমি। নাম শুনেই গা গুলিয়ে উঠলো? এরা কিন্তু খুব মজার একটা প্রাণী। কিংবদন্তির হাইড্রার মতো এদেরও একটা মাথা কেটে ফেললে দুইটি মাথা সে জায়গা দখল করে নেয়। বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই এ অদ্ভুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের ব্যর্থ চেষ্টা করে আসছিলেন। তাঁদের সাহায্য করতেই যেন এগিয়ে এলো ম্যাসাচুসেটসে অবস্থিত টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এক কম্পিউটার। এটি মাত্র ৪২ ঘন্টায় রহস্যটির সমাধান করতে সমর্থ হয়। শুধু তাই নয়, চ্যাপ্টা কৃমির জিনের পুনর্জাত হবার ক্ষমতা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মডেলও তৈরি করে এ কম্পিউটার! স্বয়ংসম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির পথে এ ঘটনা একটি মাইলফলক হয়ে আছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আসলে কী?

সোজা ভাষায় বলতে গেলে কোন যন্ত্রের মানুষের মতো চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নামে পরিচিত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিহাস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক বলা যায় বিজ্ঞানী অ্যালেন টিউরিংকে। চিন্তা করতে সক্ষম যন্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে ১৯৫০ সালে তিনি একটি গবেষণা পত্র প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, ‘চিন্তা’ শব্দটির পরিব্যাপ্তি বোঝা কঠিন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ের জন্যে টিউরিং পরীক্ষাটি সে সময়েই উদ্ভাবিত। যদি কোন যন্ত্র কথোপকথনে (টেলিপ্রিন্টারের সাহায্যে) এমন ভালো হয় যে একজন সত্যিকারের মানুষের সাথে কথোপকথন থেকে একে আলাদা বলে চিহ্নিত করা যায় না, তাহলে যুক্তিসঙ্গতভাবেই বলতে হয় সেই যন্ত্রটি “চিন্তা” করতে সক্ষম।

বর্তমান প্রেক্ষাপট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক বিচ্ছিন্ন বেশ কিছু গবেষণার কাজ হলেও উল্লেখযোগ্য কোন অগগ্রতি দেখা যাচ্ছিলো না বহু বছর ধরে। এ চিত্র অবশ্য যায় বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে এসে। এ সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্জন করেছে আশাতীত অগ্রগতি, যা সম্ভব হয়েছে নতুন ধরনের অ্যালগরিদম, ডাটা মাইনিং আর কম্পিউটারের প্রসেসিং শক্তির নাটকীয় হারে বৃদ্ধির কারণে। ম্যাককিনজি গ্লোবাল ইন্সটিটিউটের গবেষণায় জানা গেছে, গুগল শুধুমাত্র ২০১৬ সালেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পেছনে ২০-৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। বর্তমান সময়ের আলোচিত উদ্যোক্তা এলন মাস্ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করার জন্য ‘Open AI’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানও তৈরি করেছেন। মাইক্রোসফট আর অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি জগতের মহারথীরাও পিছিয়ে নেই এ প্রতিযোগিতা।

আশা করা যায়, মানবজাতির বহু জটিল সমস্যার সহজ সমাধান দিয়ে আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করবে এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তবে তার সাথে কিছু সমস্যাও হয়তো জন্ম দেবে।

চীনে উৎপত্তি হওয়া গো (Go) পৃথিবীর প্রাচীনতম বোর্ড খেলাগুলোর একটি। এ খেলার নিয়মগুলো বেশ সহজ। তবে সম্ভাব্য চালের সংখ্যা এত বেশি যে জয় পাওয়া খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায় কম্পিউটার প্রোগ্রামের জন্যও। কিন্তু ২০১৬ সালে ৪-১ ব্যবধানে গো গ্র্যান্ডমাস্টার লি সিডলকে হারিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে গুগল ডিপমাইন্ড কোম্পানির তৈরি করা এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আর এভাবেই হয়তো মানুষের চেয়ে অনেক পেশাতেই দক্ষ হয়ে উঠবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তারা। তখন মানুষ কি খুঁজে পাবে নতুন কর্মক্ষেত্র?

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

সাহিত্য আর চলচ্চিত্রে আমরা নিয়মিত দেখছি মানুষের বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান নিয়ে জল্পনা-কল্পনা। বিজ্ঞানীরা অবশ্য এখনই এসব সম্ভাবনা মেনে নিতে নারাজ। কারণ চারপাশের পরিস্থিতি সামাল দেবার জন্য যেসব দক্ষতা প্রয়োজন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাদের তা অর্জন করতে পাড়ি দিতে হবে দীর্ঘ পথ। মানবিক গুণাবলি যেমন, সহমর্মিতা, আত্মত্যাগ ইত্যাদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাদের মধ্যে সৃষ্টি করা খুব সহজ ব্যাপার নয়।

তাই একটা প্রশ্ন থেকেই যায় – পার্সন অফ ইন্টারেস্টের ‘মেশিন’ নাকি টার্মিনেটরের ‘স্কাইনেট কোন পথে যাবে আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা?

Loading

USAID Logo - কুইজার্ডস (Quizards)

This article is made possible by the support of the American People through the United States Agency for International Development (USAID.) The contents of this article are the sole responsibility of the Quizards project and do not necessarily reflect the views of USAID or the United States Government.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here