বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী

জয়নুল আবেদিন

১৯১৪ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করা জয়নুল আবেদিন বাংলার ইতিহাসে জনপ্রিয় চিত্রশিল্পীদের একজন। তাঁকে বাংলাদেশের মডার্ন আর্টের জনক বলা হয়। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের সময় সস্তা প্যাকিং পেপারে চাইনিজ কালি ও তুলির সুনিপুণ আচরে তিনি মানুষের দুর্দশার চিত্র ফুটিয়ে তুলেন। দেশবিভাগের পর ঢাকায় তাঁর প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় ইন্সটিটিউট অফ আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস, যা বর্তমানে চারুকলা ইন্সটিটিউট নামে পরিচিত। চিত্রশিল্পের বিস্তারে অবদান রাখার জন্য তাঁকে ‘শিল্পাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তাঁর বিখ্যাত শিল্পকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- দুর্ভিক্ষ, নবান্ন, মনপুরা-৭০, সংগ্রাম, প্রভৃতি। দেশবরেণ্য এই শিল্পী ১৯৭৬ সালে ফুসফুস ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেন।

কামরুল হাসান

আবু শরাফ মোহাম্মদ কামরুল হাসান ১৯২১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। দেশবিভাগের পর জয়নুল আবেদিনের সাথে তিনিও ইন্সটিটিউট অফ আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশের স্বাধিকার ও অসহযোগ আন্দোলনে তিনি যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও বেতার দপ্তরের শিল্প বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় জেনারেল ইয়াহিয়া খানের প্রতিকৃতি অবলম্বনে তাঁর আঁকা ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’ ড্রয়িং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে এক শৈল্পিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। ড্রয়িং ও স্কেচের নৈপুণ্যের জন্য তাঁকে ‘পটুয়া’ উপাধি দেয়া হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকার চূড়ান্ত ডিজাইন ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মনোগ্রাম কামরুল হাসানের হাতেই তৈরি। তাঁর বিখ্যাত চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে – নাইওর, তিন কন্যা, প্রভৃতি। সারাজীবন চিত্রকর্মের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সচেতনতার চিহ্ন রেখে যাওয়া পটুয়া কামরুল হাসান ১৯৮৮ সালে তাঁর মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও ‘দেশ আজ বিশ্ববেহায়ার খপ্পরে’ নামক একুসামান্য স্কেচ এঁকে যান।

এস এম সুলতান

১৯২৩ সালে নড়াইলে জন্ম নেয়া শেখ মোহাম্মদ সুলতান আমাদের কাছে এস এম সুলতান নামেই অধিক পরিচিত। স্কেচ দিয়ে হাতেখরি হলেও শিল্পের অসংখ্য জগতেই পদচারণা রয়েছে তাঁর। কলকাতা আর্টস কলেজে পড়াশোনা শেষে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন উপমহাদেশের পথে পথে। এসময় আমেরিকান ও ব্রিটিশ সৈন্যদের প্রতিকৃতি একেছেন প্রচুর। কোনো একটি স্থানে থাকেননি বেশি দিন। এজন্য তার আঁকা বেশিরভাগ ছবির হদিস পাওয়া যায়নি পরবর্তীতে। দেশে ফেরত আসার পর তাঁর ছবিতে ফুটে উঠেছে শ্রেণীর দ্বন্দ্ব ও কৃষকদের ম্রিয়মাণ দশার চিত্র। গ্রামীণ অর্থনীতিও পরিলক্ষিত হয় তাঁর ছবিগুলোতে। তাঁর আঁকা ছবির মধ্যে ‘হত্যাযজ্ঞ’ ও ‘চরদখল’ উল্লেখযোগ্য। ঢাকায় যখন আধুনিক চিত্রকলার বিপ্লব হচ্ছে, তিনি তখন থেকে গেছেন নড়াইলে, তাঁর ছবির অনুপ্রেরণা নিয়েছেন সাধারণ কৃষকদের জীবন থেকে। তাই অনেকটা লোকচক্ষুর অন্তরালেই থেকে গেছেন তিনি। ১৯৯৪ সালে যশোরে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

শাহাবুদ্দিন আহমেদ

ফরাসি প্রবাসী এই বাঙালি চিত্রকরের জন্ম হয় ১৯৫০ সালে, ঢাকায়। সংগ্রামী মানুষের শারীরিক প্রকাশভঙ্গী, দুর্দমনীয় শক্তি ও গতির প্রকাশ দেখা যায় তাঁর আঁকা ছবিতে। আধুনিক চিত্রকলায় নৈপুণ্যের জন্য তিনি অর্জন করেছেন ফ্রান্সের বেসামরিক সম্মাননা ‘নাইট’ উপাধি। এছাড়াও ইউরোপের চিত্রজগতে তাঁর খ্যাতি রয়েছে। লা করিডা, এলান, গতি – নামক চিত্রকর্মের মধ্য দিয়ে তিনি অমর হয়ে থাকবেন।

হাশেম খান

হাশেম খানের জন্ম ১৯৪১ সালে চাঁদপুরে। চারুকলা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের সংবিধান গ্রন্থ অলংকরণের মূল দায়িত্ব ছিল তাঁর উপরেই। প্রচুর বইয়ের প্রচ্ছদ অলংকরণ করেছেন তিনি। তার কাজের জন্য তিনি ১৯৯২ সালে একুশে পদক এবং ২০১১ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

Loading

USAID Logo - কুইজার্ডস (Quizards)

This article is made possible by the support of the American People through the United States Agency for International Development (USAID.) The contents of this article are the sole responsibility of the Quizards project and do not necessarily reflect the views of USAID or the United States Government.

2
like
4
love
0
haha
0
wow
0
sad
0
angry

Quizards Desk

Happy Quizzing.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Send this to a friend