ডিস্টোপিয়ান সাহিত্য

ডিস্টোপিয়ান সাহিত্য - কুইজার্ডস (Quizards)

ডিস্টোপিয়ান ঘরানার লেখায় লেখক তুলে ধরেন ভবিষ্যতের কোন এক মানবসমাজের গল্প, এবং এসব সমাজের বৈশিষ্ট্যগুলো হয় ভয়ংকর।মানুষের জন্য মোটেও সুখকর নয় বরং বিষাদে ভরপুর । ইউটোপিয়ার ঠিক উল্টো। সে রকম কিছু উপন্যাসের গল্পই নিয়ে এই লেখা।

নাইন্টিন এইটি-ফোর

১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয় জর্জ অরওয়েল রচিত কালজয়ী ডিস্টোপিয়ান উপন্যাস নাইন্টিন এইটি-ফোর। এই উপন্যাসে আমরা দেখি এমন এক ব্রিটেন যেখানে সত্য বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই।ইতিহাস যেখানে প্রতিনিয়ত শাসক শ্রেণীর খেয়াল খুশিতে পাল্টে যাচ্ছে। আপনার প্রতিটি পদক্ষেপের উপর নজর রাখছে Big brother নামের এক স্বৈরাচারি শাসকের যুদ্ধবাজ সরকার, আর সেখান থেকেই জন্ম বিখ্যাত “Big brother is watching you” সংলাপটির।

এই উপন্যাসটি এতই প্রভাবশালী হয়েছিলো যে শাসকশ্রেণীর স্বেচ্ছাচারী অগণতান্ত্রিক আচরণকে আখ্যা দেয়া হয় ‘অরওয়েলিয়ান’ বলে।গত কয়েক দশক ধরে পৃথিবীর নানা অংশে চলতে থাকা সরকারি নজরদারি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ, বিরুদ্ধ মতালম্বীদের উপর নির্যাতনের মত ঘটনাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় নাইন্টিন এইটি-ফোরের ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎবাণী।

ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড

এইচ.জি.ওয়েলসের কল্পবিজ্ঞান উপন্যাসগুলি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে অ্যালডাস হাক্সলি রচনা করেন ‘ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’। ১৯৩২ সালে প্রকাশিত এ ডিসটোপিয়ান উপন্যাসে আমরা দেখি এক ভয়ানক ভবিষ্যতের চিত্র যেখানে চলছে স্বেচ্ছাচারিতা, শাসক গোষ্ঠীর সর্বগ্রাসী নিয়ন্ত্রণ, এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর রাজত্ব। কিন্তু এই জগতের বাসিন্দারা নিজেদের সুখি মনে করে, তারা চায় না অবস্থার কোন পরিবর্তন।বরং, তারা ভালবাসে তাদের এ জগতকে। যার মূল কারণ ‘সোমা’ নামক একটি মাদকে তাদের আসক্তি, যা নিয়মিত ব্যবহার করতে নাগরিকদের উৎসাহিত করে শাসকগোষ্ঠী।সাহিত্য সমালোচকেরা মনে করেন অনেক ওষুধ কোম্পানি ‘সোমা’র মতন এমন ওষুধ তৈরি করছে ।বর্তমান পৃথিবীর সাথে সাদৃশ্য এখানেই শেষ নয়। ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড এমন এক পৃথিবী যেখানে মানুষ গঠনমূলোক চিন্তার বদলে সস্তা বিনোদনকে বেছে নিয়েছে, সরকারের হঠকারী নীতির চেয়ে মানুষ চলচ্চিত্র আর ধারাবাহিক নাটক নিয়েই বেশী আগ্রহী। কঠিন সত্যকে অস্বীকার করে সহজ মিথ্যাকে আলিঙ্গন করা এই জগতের সাথে আমদের চেনা পৃথিবীর কোন মিল খুঁজে পান কি প্রিয় পাঠক?

ফারেনফাইট ৪৫১

স্নায়ুযদ্ধের সময় প্রকাশিত এই ডিস্টোপিয়ান উপন্যাসে রে ব্র্যাডবেরি কল্পণা করেছেন এমণ এক মার্কিন সমাজের যেখানে সব বই নিষিদ্ধ। কাগজ পোড়ার তাপমাত্রা ৪৫১ ফারেনহাইট থেকেই এ উপন্যাসের নামকরন ‘ ফারেনফাইট ৪৫১’ করেন লেখক।

এ উপন্যাসের কেন্দ্রিয় চরিত্র গাই মন্টাগ একজন “ফায়ারম্যান” তবে অগ্নি নির্বাপণ নয় অগ্নি সংযোজনই তার কাজ। কার কাছে বইয়ের সন্ধান পেলেই দলবল নিয়ে সেখানে অগ্নি সংযোজন করে উপস্থিত হন মন্টাগ। এভাবেই তিনি একসময় বইয়ের প্রতি আকর্ষণ বোধ করতে শুরু করেন তিনি এবং শুরু করেন গোপনে বই সংগ্রহ। এভাবেই এগিয়ে চলে উপন্যাসটির কাহিনী।

মজার বিষয় এই রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপ এবং নির্বোধ ভোগবাদের বিরুদ্ধে সতর্কতা নিয়ে লেখা বইটিকে প্রকাশের পরপরই ‘প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়বস্তু’র জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

হ্যান্ডমেইডস টেল

হ্যান্ডমেইডস টেলকে বলা যায় একটি ডিসটোপিয়ান নারীবাদী উপন্যাস। এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। এই উপন্যাসে আমরা দেখতে পাই মার্কিন সরকারকে ক্ষমতায় এসেছে একটি স্বৈরাচারী খ্রিস্টান দিব্যতান্ত্রিক সরকার। পারমানবিক যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে নারীদের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে আশঙ্কাজনক হারে।তাদের সব নাগরিক অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের পরিণত করা হয়েছে দাসে।সমাজের জন্য অপ্রয়োজনীয় হিসেবে গণ্য মানুষদের পাঠানো হয় দূষিত অঞ্চলে চাষাবাদে।
এই উপন্যাসের মূল রসদ ইতিহাস, এ উপন্যাসে যা বর্ণিত হয়েছে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও নারীদের এমন অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। ৬৯তম প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ডসে এই উপন্যাসকে উপজীব্য করে গড়ে ওঠা ধারাবাহিকটি ৮টি বিভাগে পুরষ্কার লাভ করে।

এসব উপন্যাসের করা সতর্কবাণী থেকে শিক্ষা নিয়েই আমরা এড়াতে পারি মানবজাতির জন্য অপেক্ষা করা কোন ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎ, গড়ে তুলতে পারি বৈষম্য ও শোষণহীন এক সুন্দর পৃথিবী।

Loading

USAID Logo - কুইজার্ডস (Quizards)

This article is made possible by the support of the American People through the United States Agency for International Development (USAID.) The contents of this article are the sole responsibility of the Quizards project and do not necessarily reflect the views of USAID or the United States Government.

এ কন্টেন্টের ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

0
like
3
love
0
haha
0
wow
0
sad
1
angry

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here