বিংশ শতাব্দীর রাজনীতিতে নারী

বিংশ শতাব্দীর রাজনীতিতে নারী - কুইজার্ডস (Quizards)

সভ্যতার উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি সবসময় নারীর ভূমিকা ছিলো। বিংশ শতাব্দীর বড় কিছু সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার বেলাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এমন কয়েকজন নারীকে নিয়ে এবারের লেখা।

এমেলিন প্যাংকহার্স্ট (১৮৫৮-১৯২৮)

বিংশ শতাব্দীর প্রভাবশালী নারীর তালিকা করলে এমেলিন প্যাংকহার্স্টের নামই সবার প্রথমে আসে। নারীর ভোটাধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত হিসেবে ইতিহাসে তিনি অমর হয়ে আছেন। সেই সময়ে যুক্তরাজ্যে নারীদের ভোট দেওয়ার কোন সুযোগ ছিলো না, যার অর্থ রাজনীতিতে নারীদের উপস্থিতিও ছিলো না। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য তিনি “উইমেনস সোশ্যাল এন্ড পলিটিকাল ইউনিয়ন” প্রতিষ্ঠা করেন, যা নারীর ভোটাধিকার আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রদান করে। অনেক বছরের সংগ্রামের বিনিময়ে অবশেষে ১৯১৮ সালে যুক্তরাজ্যে ত্রিশোর্ধ্ব নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করা হয়, যা ১৯২৮ সালে একুশোর্ধ্ব নারীদের জন্যও প্রযোজ্য হয়।

হ্যাটি ক্যারাউয়ে (১৮৭৮-১৯৫০)

আমেরিকান রাজনীতিতে হ্যাটি ক্যারাউয়ে একটি বিশেষ নাম। প্রথম নারী সিনেটর হিসেবে তিনি আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে নিজের জন্য জায়গা করে নিয়েছেন। ১৯৩২ সালে আরকান্সাসের সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি, যা ততকালীন মার্কিন নারীদের মধ্যে ছিলো প্রথম। তিনি প্রথম নারী সিনেটর হিসেবে আমেরিকান সিনেটে সভাপতিত্বও করেছেন। সেই আমলে নারী হওয়া সত্ত্বেও রাজনীতির শীর্ষে স্থান অর্জন করে আজ তিনি বিশ্বের সকলের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

রোসা পার্কস (১৯১৩-২০০৫)

১৯৫৫ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে এক শীতের সন্ধ্যায় শুধুমাত্র বাসের একটি সিটে বসে থেকেই জন্ম দেন এক বিপ্লবের। তাঁর নাম রোসা পার্কস। সেদিন তিনি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে কাজ করে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। বাসে উঠে ‘কালারড সেকশন’ অর্থাৎ, সাদা চামড়াদের জন্য বরাদ্দকৃত সিট খালি দেখে আফ্রিকান-অ্যামেরিকান পার্কস তাতে চড়ে বসেন। তখনই গাড়ির চালক এসে তাকে সিট ছেড়ে দিতে বললে প্রতিবাদী হয়ে উঠেন পার্কস। অ্যালাব্যামা শহরের আইন অনুযায়ী তাকে পুলিশের হাতে আটক হতে হয় এবং জরিমানা গুনতে হয় ১০ ডলার। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি যেই প্রতিবাদ শুরু করেন তা এক পর্যায়ে বিপ্লবে রূপান্তরিত হয় এবং ফলস্বরূপ রোসা পার্কস সাদা-কালো সকলেরই হৃদয়ে স্থান পান।

পার্কস তাঁর বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন মূলত সূচনা করেন ১৯৪৩ সালে “ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দি অ্যাডভান্সমেন্ট অফ দি কালারড পিপল (এনএএসিপি)” এর সদস্য হয়ে। ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত সেক্রেটারি হিসেবে সংস্থাটিতে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক আন্দোলনে অসামান্য অবদান রাখায় তাকে “মাদার অব দি সিভিল রাইটস মুভমেন্ট” উপাধি দেয়া হয়। ১৯৮৭ সাল থেকে তিনি তার ও তার স্বামীর নামে করা একটি সংস্থার মাধ্যমে অসংখ্য তরুণ-তরুণীকে ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান তৈরিতে অবদান রেখেছেন।

মার্গারেট থ্যাচার (১৯২৫-২০১৩)

“লৌহমানবি” খ্যাত মার্গারেট থ্যাচার ইউরোপের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তিনি ব্রিটিশ কনজার্ভেটিভ পার্টির রাজনীতিবিদ এবং যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে একাধারে সবচেয়ে বেশি সময় যাবত (১৯৭৯-’৯০) প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। নৈতিক মূল্যবোধ, জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার কারণে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে সোভিয়েতের বিরুদ্ধে কঠোর বাণী উচ্চারণের পর তার উপাধী হয় “লৌহমানবী (আয়রন লেডি)”। ব্রিটেনের চলমান মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে আনেন। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সাথে ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে যুদ্ধে সফলতা পান। এতে তার জনসমর্থন বৃদ্ধি পায় ফলে ১৯৮৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন। ‘ন্যাটো’ এর পক্ষে তিনি অত্যন্ত শক্ত অবস্থান নেন। ১৯৯০ সালের নভেম্বরে টানা প্রায় ১২ বছর দায়িত্ব পালনের পর অবশেষে পদত্যাগ ঘোষণা করেন এ নারী নেত্রী।

ইন্দিরা গান্ধী (১৯১৭-১৯৮৪)

নেহরু-গান্ধী পরিবারের সদস্যের পরিচয় জওহরলাল নেহরুর মেয়ে হিসেবে নয়; তাঁর মূল পরিচয় ভারতের প্রথম ও আজ পর্যন্ত একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। ১৫ বছর তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সরাসরি সমর্থন করে তিনি যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বর্তমান বিশ্বে ভারতের উন্নত অবস্থানের পিছনে তাঁর পরোক্ষ অবদান অপরিসীম।

বেনজির ভুট্টো (১৯৫৩-২০০৭)

বেনজির ভুট্টো শুধু পাকিস্তানই নয়, পুরো আধুনিক মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী নেত্রী। তিনি বিতর্কিত নেতা জুলফিকার আলি ভুট্টোর কন্যা এবং পাকিস্তানের দুইবারের প্রধানমন্ত্রী (১৯৮৮-’৯০ এবং ১৯৯৩-’৯৬)। ১৯৭৯ সালে সামরিক জান্তা জিয়াউল হক কর্তৃক তার পিতার প্রাণদন্ডের পর তিনি ‘পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)’ এর চেয়ারপার্সন নিযুক্ত হন। এর পরপরই পাঁচ বছরের জন্য গৃহবন্দি হন। অনেক আন্দোলন সংগ্রামের পর ১৯৮৮ সালে পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন। পাকিস্তানের চলমান দারিদ্র্যের সাথে যুদ্ধ করে প্রশংসা অর্জন করেন। তার বিরুদ্ধে ব্যাপক ষড়যন্ত্রের পর ২০০৭ সালে নির্বাচনি প্রচারণাকালে আততায়ীর গুলিতে এ নেত্রী নিহত হন।

Loading

USAID Logo - কুইজার্ডস (Quizards)

This article is made possible by the support of the American People through the United States Agency for International Development (USAID.) The contents of this article are the sole responsibility of the Quizards project and do not necessarily reflect the views of USAID or the United States Government.

এ কন্টেন্টের ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

0
like
2
love
0
haha
0
wow
0
sad
0
angry

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here