সাইবার নিরাপত্তা: ইন্টারনেটে নিজেকে নিরাপদ রাখুন

সাইবার নিরাপত্তা: ইন্টারনেটে নিজেকে নিরাপদ রাখুন - কুইজার্ডস (Quizards)

ঘটনা ১: আফসার সাহেব (ছদ্মনাম) কম্পিউটারে ইমেইল চেক করছেন। হঠাৎ একটি মেইলের দিকে তার নজর পড়ল। খুলে দেখলেন, কোন এক সংস্থা থেকে তার এই ইমেইল আইডিটি লটারির পুরস্কার জিতেছে, সেজন্য তারা আফসার সাহেবের ব্যাংক একাউন্টে ব্যালেন্স ট্রান্সফার করতে চায়। এজন্য একাউন্টের নম্বরটি তাদের লাগবে। ইন্টারনেট বিষয়ে অনভিজ্ঞ আফসার সাহেব একাউন্ট নম্বরটি দিয়ে দিলেন। এরপর তাদের আর কোন খোঁজ নেই। আফসার সাহেবের সন্দেহ হতেই পরদিন তিনি একাউন্টটি ওপেন করে দেখলেন সর্বনাশ হয়ে গেছে। তার একাউন্টের পুরো ব্যালেন্স হাওয়া!

ঘটনা ২: রিয়া ও আকাশের(ছদ্মনাম) পরিচয় হবার একে অপরকে তাদের ভালো লেগে যায়, এরপর তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। নিয়মিত ফেসবুকে তাদের কথা হতে থাকে। কিছুদিন পরে তাদের এক অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি আকাশ ধারণ করে ভিডিওতে। সম্পর্ক ভালই চলছিল, রিয়াও এসব নিয়ে কিছু ভাবেনি। কিন্তু বছরখানিক পরে সম্পর্ক ভেঙে যায়। প্রতিশোধের বশে আকাশ রিয়ার সেই ভিডিওগুলি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। এখন রিয়ার নিত্যসঙ্গী ভয়, মানসিক যন্ত্রণা এবং উদ্বিগ্নতা।

ঘটনা ৩: সম্প্রতি ব্রিটেনে ক্যাম্ব্রিজ অ্যানালিটিকা নামক একটি ডাটা অ্যানালাইসিস সংস্থার গবেষণাপ্রধান ক্রিস্টোফার ওয়াইলি গণমাধ্যমের কাছে ফাঁস করেন যে, তাঁর সংস্থা ২০১৬ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ও ব্রিটেনের নির্বাচনে প্রায় ৮৭ মিলিয়ন ফেসবুক প্রোফাইল থেকে অন্যায়ভাবে তথ্য সংগ্রহ করে ভোটারদের মন মানসিকতা বুঝবার চেষ্টা করে। সংস্থাটি কিছু অ্যাপ ব্যবহার করে ফেসবুক থেকে প্রোফাইলগুলোর ব্যক্তিগত তথ্য, ইমেইল একাউন্ট ইত্যাদি হাতিয়ে নেয় এবং সেসব তথ্য থেকে তাদের রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করে। পরবর্তীতে নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে সেসব তথ্য ব্যবহার করা হয়, ভোটারদের নিজেদের কাজে লাগাতে।

ঘটনা ১ ও ২ হয়তো আমাদের আশেপাশে প্রতিনিয়তই ঘটে বা ঘটছে। ঘটনা ৩ বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সারা বিশ্বে তোলপাড় শুরু করে দিয়েছে। এমনকি ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গকে ফেসবুকের প্রাইভেসি ইস্যুর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে তলবও করা হয়েছে।

আমরা সাধারণ ইন্টারনেট বা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারকারী হিসেবে এরকম অবস্থায় যেটা করতে পারি সেটা হল নিজেদের সচেতনতা বৃদ্ধি। কিছু বিষয় দেখে নেওয়া যাকঃ

১. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কখনো নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য দেবেন না।
নিজের বিভিন্ন অনলাইন একাউন্ট ও এর পাসওয়ার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা এর অন্যান্য তথ্য, লাইসেন্স, দলিলপত্র ইত্যাদির তথ্য বা স্ক্রীনশট শেয়ার করা থেকে সাবধান থাকুন। এছাড়া ব্যক্তিগত মুহূর্ত, জীবনযাপন ইত্যাদির তথ্য বা ছবি কাকে দিচ্ছেন, জানাচ্ছেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। অপরিচিত বা অল্পপরিচিত ব্যক্তির সাথে এসব শেয়ার না করাই ভাল।

২. যে কোন অ্যাপ ব্যবহার করার আগে সতর্ক হয়ে নিন।
অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবের সাথে সংযুক্ত অ্যাপ আমরা ব্যবহার করে থাকি। লক্ষ্য করে দেখবেন এসব অ্যাপ ইন্সটল করার সময় তারা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, ফ্রেণ্ডলিস্ট ইত্যাদি দেখার অনুমতি চায়। অর্থাৎ ইন্সটল করা মাত্রই আপনি আপনার ব্যক্তিগত তথ্যে তাদের এক্সেস দিয়ে দিচ্ছেন। সুতরাং সাবধান থাকুন, কী ধরনের অ্যাপ আপনি ব্যবহার করছেন সেই বিষয়ে। অযথা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

৩. সবসময় সচেতন থাকুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ইমেইলে আপনি কী লিখছেন।
আপনার ব্যক্তিগত তথ্য অসাবধানে আপনার ফেসবুক পোস্ট বা কোন মেইলে প্রকাশিত হয়ে যেতে পারে। সেখান থেকে আপনি হয়ত শিকার হতে পারেন বিভিন্ন হয়রানির বা সাইবার বুলিং-এর।

৪. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাবলিক পোস্ট দেবার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
সবসময় সোশ্যাল মিডিয়াতে পাবলিক পোস্ট করবেন না। প্রাইভেসি সেটিং পরিবর্তন করে রাখুন। পাবলিক পোস্ট করবার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন কারণ আপনার তথ্য যে কারো কাছে পৌঁছে যেতে পারে।

৫. কোন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হয়রানিমূলক বা অপমানমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
কোন ধরনের উস্কানিমূলক বা অপমানমূলক বক্তব্য দেওয়া যেমন অশোভন, তেমনি এটির কারনে আপনি সাইবার বুলিয়িংয়ে অভিযুক্ত হতে পারেন, এমনকি তথ্য অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায়ও আসতে পারেন।

৬. স্প্যাম, ফিশিং, স্পাইওয়্যার থেকে সতর্ক থাকুন।
ইমেইলে স্প্যাম ফোল্ডার চেক করলেই দেখবেন বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় মেইলে ভর্তি হয়ে আছে। এধরনের স্প্যাম মেইল ও সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট, লিংক থেকে সতর্ক থাকুন। ওয়েব ব্রাউজ করবার সময়ে খেয়াল রাখুন টাইপিং ভুলের কারণে অন্য কোন ঠিকানায় ঢুকছেন কিনা। এগুলো আপনার ব্যক্তিগত তথ্য যেমন চুরি করতে পারে, তেমনি স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে ভাইরাসের আক্রমণ হতে পারে।

৭. অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ও ফায়ারওয়াল ব্যবহার করুন।
ভাইরাস, হ্যাকার আক্রমণ, স্পাইওয়্যার, এডওয়্যার ইত্যাদি অযাচিত বিষয় থেকে স্মার্টফোন বা কম্পিউটারকে সুরক্ষিত রাখতে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার, ফায়ারওয়াল ইত্যাদি ব্যবহার করুন।

Loading

USAID Logo - কুইজার্ডস (Quizards)

This article is made possible by the support of the American People through the United States Agency for International Development (USAID.) The contents of this article are the sole responsibility of the Quizards project and do not necessarily reflect the views of USAID or the United States Government.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here